NEWSTV24
মহাসড়কে চাপ বাড়ছে, ঈদযাত্রা এখনও স্বস্তির
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৬:১১ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ছুটির প্রথম দিনে মঙ্গলবার ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তির। যদিও বাসে কৌশলে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কগুলোতে চাপ থাকলেও যানজট নেই। পদ্মা ও যমুনা সেতুতে যান চলাচল দ্বিগুণ হওয়ায় ধীরগতি তৈরি হলেও অচলাবস্থা নেই। ভিড় বাড়লেও ট্রেনে শিডিউল গতকাল রাত পর্যন্ত ঠিক ছিল। আজ বুধবার অধিকাংশ কলকারখানায় ছুটি হবে। তাই সন্ধ্যার পর যাত্রীর ঢলে যানজটে ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।দীর্ঘ ছুটির কারণে গত বছরও ঈদুল ফিতরের যাত্রা ছিল স্বস্তির। আগামী ২১ মার্চ ঈদ উদযাপিত হতে পারে। এর আগে চার দিনের ছুটিতে ধাপে ধাপে শহর ছাড়ছেন যাত্রীরা। তাই ভোগান্তি নেই বলে জানিয়েছেন পরিবহন মালিকরা। তবে তাদের ভাষ্য, মাসখানেক আগে নির্বাচনের ছুটিতে কোটি মানুষ গ্রামে গিয়েছিলেন। এ কারণে এবারের ঈদে যাত্রীও আগের তুলনায় কম। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আগের দিনগুলোর মতো আবারও দাবি করেছেন বাসের বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। বরং সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম নিচ্ছেন মালিকরা। একই দাবি করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।যদিও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শেষ গন্তব্য কৌশলে বাসগুলো আগের বছরের ঈদগুলোর মতো এবারও বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে। মহাখালীতে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহের ভাড়া ৩১৫ টাকা হলেও সৌখিন, রাজীব, আলম এশিয়াসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাসে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। অন্য সময়ে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা ভাড়া নেওয়া হতো এসব বাসে। চালক, মালিকদের যুক্তি বাড়তি নয়; শেষ গন্তব্যের সরকার নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে যাত্রী যেখানেই নামুক।

আগের দিনের তুলনায় গতকাল গাবতলী এবং সায়েদাবাদেও যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪০ আসনের বাসে গাবতলী থেকে বরিশালের সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৭১২ টাকা। গাবতলী-পটুয়াখালী ৮১৯, গাবতলী-যশোর ৬৭৯, গাবতলী-বাগেরহাট ৮৯৩ টাকা, গাবতলী-সাতক্ষীরা ৯২০ টাকা। এসব বাসে স্বাভাবিক সময়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। গতকাল দেখা যায়, ঢাকা-সাতক্ষীরার ভাড়া হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে এলডি পরিবহনে । ডেকে ডেকে যাত্রী তোলা হচ্ছে টার্মিনাল থেকে। বাসটির যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ৫০০ টাকা নেওয়া হয়।এখন সরকারি চার্ট ঝুলিয়ে হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, যাত্রী যেখানেই নামকু। বাসটির চালকের সহকারী মো. রুবেল জবাবে   বলেন, অন্য সময় কম ভাড়া নিলেও পোষায়। কিন্তু ঈদে আসার সময় ফাঁকা ফিরতে হয় বলে সরকার নির্ধারিত ভাড়া নিতে হয়। আর বাড়তি ৮০ টাকা বকশিশ। নইলে তেলের সংকটের কারণে লোকসান হয়। দেড়-দুই ঘণ্টা সময় বাড়তি লাগছে তেল পেতে। মহাসড়কে চাপ থাকলেও যানজট নেই সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঢাকা-উত্তরাঞ্চল মহাসড়কে গাড়ির চাপ বাড়লেও যানজট নেই। সিরাজগঞ্জের যানজটপ্রবণ হাটিকুমরুল মোড়ে গতকালও স্বস্তির ছিল ঈদযাত্রা। সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ক্লোভার লিভস ইন্টার চেঞ্জ ফ্লাইওভার পুরোপুরি শেষ না হলেও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগেভাগেই উত্তরাঞ্চলগামী চারটি এবং দক্ষিণাঞ্চলের দিকে আরও দুটিসহ মোট ছয়টি লেন চালু করা হয়েছে। এর ফলে ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর এবং দক্ষিণাঞ্চলের কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনাগামী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছে।

তবে কিছু এলাকায় সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখা হলেও কিছু অংশে এগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে দেখা গেছে। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে দিনরাত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।সাসেক-২ প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, হাটিকুমরুল মোড়ে ৬০০ ওয়াটের ১৪টি ফ্লাডলাইট দেওয়া হয়েছে। ফলে রাতেও গাড়ি চলতে পারছে।যমুনা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, যানবাহনের চাপ বাড়লেও সেতুর দুই প্রান্তে যানজট নেই। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৬৫৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। সরেজমিন ঢাকা-উত্তরাঞ্চল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গায় দেখা গেছে, বাস না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি যাচ্ছেন যাত্রীরা। যানবাহনগুলোতে তেল সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভ্যাপসা গরম ও ধুলোবালিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো যাত্রীদের। জ্বালানির কারণে বাস সংকটে বহু যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন সড়কে। পাবনাগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, এক ঘণ্টায় বাস পাইনি। ধুলোবালিতে খুব কষ্ট হচ্ছে।সিরাজগঞ্জের যাত্রী নীলিমা বেগম বলেন, স্বাভাবিক ভাড়া সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। এখন চাইছে ৩০০ টাকা। আজ বুধবার অধিকাংশ কলকারখানায় ছুটি হবে। অতীতে দেখা গেছে, গার্মেন্ট ছুটির পর বাস সংকটে শ্রমিকদের চরম ভোগান্তি হয়। এবারও একই আশঙ্কার কথা জানালেন কুড়িগ্রামগামী সৌরভ পরিবহনের চালক শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ডিজেল সংকটের কারণে টঙ্গীতে প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী নিরালা সুপার বাসের যাত্রী মো. শফিক বলেন, ঢাকা থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় টাঙ্গাইল এলাম। কোনো যানজট নেই। তবে গাজীপুর চৌরাস্তায় কিছু সময় আটকে ছিলাম।
লালমনিরহাটগামী আল্লাহর দান পরিবহনের সুপারভাইজার রিপন মিয়া বলেন, ডিজেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।