NEWSTV24
ফিতরা কাদের ওপর ওয়াজিব?
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬ ২২:২৪ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অথবা বুঝমান-বালেগ হওয়া কিংবা মুকীম হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপরও সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। 

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তার অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার ২/৩৫৯)

 সদকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। 

সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাবের ওপর বছরপূর্তি জরুরি নয়; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। তবে কেউ যদি ঋণগ্রস্ত হলে সে ঋণ বাদ দিয়ে নেসাবের হিসাব করবে।

 কেউ রমজানের রোজা রাখতে না পারলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে ২/১৯৯)

মাসআলা— ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। সুতরাং যে সন্তান ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর জন্মগ্রহণ করবে, তার পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। অনুরূপ কেউ যদি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের আগে মারা যায়, তাহলে তার ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় না। (বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৫)।