ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির ইশতেহারে প্রাধান্য পেয়েছিল নারীর ক্ষমতায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিনির্ভর দেশে কৃষকদের সুরক্ষায় কৃষক কার্ড, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ইমাম মুয়াজ্জিনদের সম্মানি ভাতা, খাল খনন ও পুনঃখনন, ই-হেলথ কার্ড, বৃক্ষরোপণ, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন প্রভৃতি। এসব বিষয় বাস্তবায়নে এরই মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে পুলিশ ও প্রশাসন ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, ইশতেহারে ঘোষিত অন্যান্য বিষয়ও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের এমন দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।এরই মধ্যে প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্ড মূলত পরিবারের নারীপ্রধান তথা মা ও বোনদের নামে ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্যসুবিধা যেমন চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য প্রদান করা হবে। এর পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে। সম্প্রতি সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে চার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে মূল দায়িত্ব দিয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করা
হচ্ছে। এতে সহায়তা করছে অর্থ, স্থানীয় সরকার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ থেকে এ বিষয়ক পাইলট কর্মসূচি শুরু হবে।ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ডের শক্তিশালী দিক হলো এর সর্বজনীনতা। এখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না, এটি হবে নাগরিকের অধিকার।ফ্যামিলি কার্ড প্রদানে প্রতি বছর সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের।বিশ্লেষকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার এ উদ্যোগ অবশ্য-প্রশংসনীয়। বিশেষ করে এটি নারীর ক্ষমতায়নেও ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি, স্বচ্ছতা ও সঠিক তদারকিও প্রয়োজন। অন্যথা কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির মারাত্মক ঝুঁকি থেকে যাবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার পালন করা নৈতিক দায়িত্ব। এখন যেহেতু সরকারে আছে বিএনপি, তাই যত দ্রুত সম্ভব তাদের দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন হলে দেশবাসী সাধুবাদ জানাবে। তিনি বলেন, যে কোনো রাজনৈতিক দল রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে প্রথমত তিন মাস, ছয় মাসব্যাপী কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়ে এগোতে চায়। কিন্তু ইশতেহার বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি এবং এসব পদক্ষেপ যদি যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বৃদ্ধি পাবে।