NEWSTV24
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটি নিয়ে সিদ্ধান্তহীন সরকার
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৪:৩৩ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা বা বন্ধ রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রোববার রমজানে সব ধরনের নিম্ন-মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একদিন পর সোমবার হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে আদালতের আদেশে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে রমজানে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা নাকি বন্ধ থাকবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সরকারের দুই মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সিদ্ধান্তটি মূলত নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। দায়িত্ব নিয়ে প্রথমদিনই হয়তো তাকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে হবে।সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো পরিচালনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এখানকার একটি সূত্র জানায়, তারা বাৎসরিক ছুটির একটি তালিকা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রমজান, ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটি মিলিয়ে ১৯ দিন (শুক্র ও শনিবারসহ) বিদ্যালয় বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, প্রস্তাবিত ছুটির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়েছে কিনা, তা তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত রোজা, ঈদসহ কয়েকটি ছুটি রয়েছে। মোট ১৯ দিন বন্ধ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর বাইরে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।হাইকোর্টের আদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যতদূর জেনেছি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। আমাদের প্রস্তাবিত ছুটি বহাল থাকবে নাকি পরিবর্তন হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।বিষয়টি জানতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাপ্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিক্ষকদের আন্দোলন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হয়। ফলে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটে এবং শিখন ঘাটতি তৈরি হয়। এ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে চলতি বছর ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী রমজানের প্রথম ১৫ থেকে ১৮ দিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় খোলা রেখে শিক্ষাপঞ্জি প্রণয়ন করা হয়।প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি। এসব বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং কর্মরত শিক্ষক রয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি। রমজানে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ।উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়ে চলে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের কারণে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। এছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।