NEWSTV24
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস বন্ধ, ভিড়ছে না জাহাজ
বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ১৫:০২ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

শ্রমিক-কর্মচারীর ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দর এখন অচল। প্রতিদিন পাঁচ হাজার পণ্যভর্তি কনটেইনার খালাস হয় যে বন্দরে; গত দুই দিনে বের হয়নি একটি কনটেইনারও। জাহাজ থেকে প্রতিদিন গড়ে আট হাজার কনটেইনার ওঠানামা করা জেটিও স্থবির। প্রধান তিন টার্মিনালে গত দুই দিন নোঙর করেনি নতুন জাহাজ। বন্দরের ১২টি গেট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে আট হাজার গাড়ি জেটিতে প্রবেশ করত; এখন সেখানেও সুনসান।শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল আলম জুয়েল বলেন, গত ১৯ বছরে যে বন্দর এক দিনের জন্য বন্ধ হয়নি; নির্বাচন ও রমজানের আগ মুহূর্তে এমন ধর্মঘট নজিরবিহীন।বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও এশিয়ান অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম বলেন, টানা পাঁচ দিন চলমান কর্মসূচি এরই মধ্যে আমাদের বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে। প্রতিদিনের ক্ষতি ছাড়িয়ে যাচ্ছে হাজার কোটি টাকা। রপ্তানি পণ্য ক্রেতার কাছে সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। অচলাবস্থা দূর করতে সরকার থেকে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

আমদানি ও রপ্তানিকারকরা বলছেন, অচলাবস্থা নিরসনে নৌ মন্ত্রণালয় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হবে বন্দর ব্যবহারকারী ২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান। বন্দর, এনবিআর, ডিপো, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স, সিঅ্যান্ডএফ, বার্থ অপারেটর, পোশাক মালিক, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদেরই প্রতিদিন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতি হচ্ছে হাজার কোটি টাকা।৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। তবে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে তারা। সর্বশেষ ২০০৭ সালে শ্রমিক-কর্মচারীরা এমন লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর অচল করে দিয়েছিল। সেবার নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কর্মসূচি দিলেও এবার বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে তারা।

বন্দর পরিস্থিতি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বন্দর ভবনে সব পক্ষকে নিয়ে সভা হওয়ার কথা। এতে উপস্থিত থাকবেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত গত বছরও চট্টগ্রাম বন্দর আয় করেছে ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১৫ কোটি টাকা আয় করে এই সমুদ্রবন্দর। পণ্য শুল্কায়ন করে বছরে গড়ে ৭০ হাজার কোটি টাকা আয় করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। প্রতিদিন তাদের রাজস্ব আদায় হয় গড়ে ১৯০ কোটি টাকা। পাঁচ দিন ধরে চলা কর্মবিরতির কারণে তাদের এই আয় কমেছে ৭০ শতাংশের বেশি। বন্দরসীমাতে পণ্য নিয়ে ভাসছে শতাধিক বড় জাহাজ।এসব জাহাজ একদিন অলস বসে থাকলে শিপিং এজেন্টকে প্রতিটি জাহাজে ক্ষতিপূরণ গুনতে হয় গড়ে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা। জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়ার প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ থাকায় শিপিং এজেন্টদের সার্বিক কার্যক্রম কমেছে ৮০ শতাংশ। বিদেশি বায়ারের কাছে পণ্য সময়মতো নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা। তাদের কার্যক্রম কমেছে গড়ে ৭০ শতাংশ। প্রতিদিন গড়ে আট কোটি টাকা আয় করা বেসরকারি ২১টি ডিপোর কার্যক্রম সরাসরি সম্পৃক্ত বন্দরের সঙ্গে। সেই কার্যক্রম কমেছে ৯০ শতাংশ।

ডিপো মালিক সমিতির সংগঠন বিকডার মহাসচিব রুহুল আমিন শিকদার বিপ্লব বলেন, ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টার কর্মবিরতি ছিল। সেই সময় শেষ হওয়ার পর আমরা কাজ করার জন্য কিছুটা সময় পেতাম। মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হওয়ায় সবকিছু স্থবির।সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, নির্বাচন ও রমজান সামনে। এ আন্দোলন যেভাবে মোকাবিলার দরকার ছিল, তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন দায়িত্বশীলরা। এর খেসারত গুনতে হচ্ছে আমাদের।খালাস হচ্ছে না একটি কনটেইনারও বন্দর থেকে ৬৭ ধরনের পণ্য ডিপোতে এনে খালাস করেন আমদানিকারকরা। আবার রপ্তানি পণ্যের শতভাগ পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা শুল্কায়ন হয় ডিপোতে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বন্দরের জেটি থেকে প্রতিদিন গড়ে যে পাঁচ হাজার পণ্যভর্তি কনটেইনার খালাস করা হয়, সেটিরও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া তদারক করে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। টানা কর্মবিরতির কারণে প্রথম তিন দিনে তাদের এ কাজে ব্যাঘাত ঘটলেও এখন পুরোপুরি এ কার্যক্রম স্থবির। মঙ্গলবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর একটি কনটেইনারও খালাস হয়নি। জাহাজ থেকেও কনটেইনার ওঠানো-নামানো যাচ্ছে না।চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, মঙ্গলবার বন্দর থেকে পণ্যভর্তি কোনো কনটেইনার খালাস হয়নি। বুধবারও রাত ৮টা পর্যন্ত কনটেইনার খালাস করার আগ্রহ দেখাননি কেউ। তবে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাসে আগ্রহী হলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব।