NEWSTV24
ভুল জীবনযাপন ও অযত্নের কারণে অকালেই চুল ঝরে যায়
সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ০০:১১ পূর্বাহ্ন

NEWSTV24

বর্তমান সময়ে চুলের সমস্যা একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই কমবেশি এ সমস্যায় ভোগেন। তবে মেয়েরা চুলের যত্নে তুলনামূলক সচেতন হলেও অধিকাংশ ছেলেই এ বিষয়ে উদাসীন। ফলস্বরূপ অনেকেরই অল্প বয়সে চুল পড়া শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে টাক পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। যদিও কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণ দায়ী, তবে অধিকাংশ সময়ই ভুল জীবনযাপন ও অযত্নের কারণে অকালেই চুল ঝরে যায়। 

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং ধূমপানের মতো অভ্যাস চুলের গোড়া দুর্বল করে তোলে। পাশাপাশি ভুল শ্যাম্পু ব্যবহার, অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার, ভেজা চুলে আঁচড়ানো এবং নিয়মিত তেল না দেওয়ার কারণেও চুলের ক্ষতি হয়। আবার দীর্ঘ সময় হেলমেট বা ক্যাপ ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকে ঘাম জমে সংক্রমণ সৃষ্টি হতে পারে, যা চুল পড়া আরও বাড়িয়ে দেয়। 

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু ভুল অভ্যাসের কারণে অকালে চুলে পড়ে যায়। যেমন- 

১. গরম পানি চুলের জন্য ক্ষতিকর। হালকা গরম পানিতে শ্যাম্পু করা সবচেয়ে ভালো। কিন্তু অনেকেই এটা না বুঝে প্রত্যেক দিন অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলেন। এতে চুল পড়ার সমস্যা আরও বাড়ে। 

২. শ্যাম্পু বাছাইয়ের সময়ে সতর্ক থাকুন। সব ধরনের শ্যাম্পু সবার চুলে ভালো ফল দেয় না। চুলের ধরন বুঝে শ্যাম্পু বেছে নিন। সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার এড়িয়ে যান।  

৩. চুলে ঘন ঘন জেল ব্যবহার করা, হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। কোনো কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। 

৪. অতিরিক্ত মানসিক চাপও চুল পড়ার অন্যতম কারণ।  ঠিক সময়ে খাওয়াদাওয়া বা ঘুম না হলে মনের উপর চাপ পড়ে। যে কোনো বিষয়ে খুব বেশি চিন্তা বা উদ্বেগও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য একেবারে ভালো নয়। প্রতিদিন নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো জরুরি। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত মেডিটেশন, যোগব্যায়াম করতে পারেন। 

৫. অতিরিক্ত ধূমপান করলেও চুল পড়ার সমস্যা বেড়ে যায়। তাই ধূমপান ছেড়ে দেওয়াই ভালো। 

৬. অনেক সময় খাদ্যাভাসে পরিবর্তন হলে বা শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হলে চুল পড়ে। তাই খাদ্য তালিকায় চর্বিযুক্ত, মাংস, মাছ সহ বিভিন্ন প্রোটিন রাখুন। 

৭.নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা জরুরি। তাহলে চুলের গোড়ায় জমে থাকা ময়লা সহজেই দূর হয়। এতে চুল পড়া বন্ধ হয়। 

৮. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। পাশাপাশি সাঁতার কাটা বা সাইকেলও চালানো যেতে পারে। এতে যেমন হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকবে তেমনি স্ট্রেসের মাত্রাও কমবে। তাহলে চুল পড়ার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।