NEWSTV24
চাহিদা বাড়ছে পিছিয়ে সরকারি উদ্যোগ
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:৪৯ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

পাইপলাইনে গ্যাসের সংযোগ বন্ধ থাকায় দেশে এলপিজি বা বোতলজাত সিলিন্ডার গ্যাসের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য এই জ্বালানির চাহিদা এত বেড়েছে যে, সরবরাহ এখন চাহিদার তুলনায় কম। সরকারি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হচ্ছে না, নির্ধারিত দামে সাধারণ মানুষ এলপিজি পাচ্ছে না এবং আমদানিকারকরাও বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ করতে পারছেন না। এর ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।গত দুই দশকে বিপিসির অধীনে থাকা একমাত্র সরকারি এলপি কোম্পানি বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ বাড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর অকার্যকারিতার কারণে বাজারে নিয়ন্ত্রণ নেই এবং সাধারণ গ্রাহক এখন ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি।

চাহিদার দ্রুত বৃদ্ধি

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সারাদেশে এলপিজির চাহিদা ২০১৩ সালে ছিল ৮০ হাজার টন। ২০২৩ সালে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টন, আর ২০২৫ সালে ১৭ লাখ টন। অর্থাৎ এক যুগে চাহিদা প্রায় ১৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২০৩০ সালে এটি বার্ষিক প্রায় ৩০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।তবে সরকারি উদ্যোগ এখনও যথেষ্ট কার্যকর নয়। বর্তমানে বাজারে সরবরাহের বড় অংশই বেসরকারি আমদানিকাররাই করছেন। সরকারি পর্যায়ে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ প্রায় একই স্তরে স্থির রয়েছে এবং বড় কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

বিপিসির উদ্যোগ

নতুন বছর শুরুতেই এলপিজি আমদানি ও সরবরাহে সমস্যা মোকাবিলার জন্য বিপিসি অনুমতি চেয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠিতে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেছেন, বাজারে সরবরাহ ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। কৃত্রিম সংকট হলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বাজার স্থিতিশীল করতে পারছে না। অনুমোদন পেলে বিপিসি জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ করবে।এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, এলপিজির বাজার কার্যত বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে। সরকারিভাবে কিছু আমদানি করা গেলে বাজারে ভারসাম্য আসবে। তাই আমরা আমদানির অনুমতি চেয়েছি। মো. আমিন উল আহসান জানান, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নানা জটিলতায় এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। বিপিসি আমদানি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করতে চায়। এতে সংকট দূর হবে।

টার্মিনাল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিপিসি কক্সবাজার-মহেশখালীর মাতারবাড়ী এলাকায় একটি বড় এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল, যেখানে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন রেফ্রিজারেটেড এলপিজি জাহাজ নোঙর করা যাবে। বাল্ক বা পাইকারি সরবরাহের জন্য পরিকল্পনা ছিল, পরবর্তী সময় বোতলজাতকরণ প্ল্যান্টও স্থাপন করার। তবে এই পরিকল্পনা ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং এখনও কার্যকর হয়নি।বিপিসি কক্সবাজার বা মহেশখালী মাতারবাড়ী এলাকায় ১০ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি এলপিজি টার্মিনাল স্থাপন করার পরিকল্পনা করলেও সেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। সংস্থাটি চট্টগ্রামের লতিফপুর এলাকায় বার্ষিক আরও এক লাখ মেট্রিক টন বোতলজাত এলপি গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতার বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেখান থেকে এখন বেরিয়ে বিপিসি আমদানির পরিকল্পনা করছে।বর্তমানে দেশের এলপিজি চাহিদার ৮০% রান্নায় ব্যবহৃত হয়, বাকি ২০% শিল্প, যানবাহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে। চাহিদা ক্রমবর্ধমান হলেও সরকারি উদ্যোগ পিছিয়ে। সরকারি এলপিজি কোম্পানি বছরে মাত্র ১৯-২০ হাজার টন উৎপাদন করছে, যার ৮০% সরকারি বাহিনীর কাছে যায়।