NEWSTV24
১৭ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন
শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬ ১৮:৪১ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

নতুন বছরের প্রথম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের ১৭ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, পৌষের মাঝামাঝি এ শীতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।গতকাল বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে।আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হলেও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনেক এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

গতকাল সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজশাহী ও গোপালগঞ্জে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।গোপালগঞ্জে শীতের দাপট সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে। প্রচণ্ড শীতে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি। রাস্তাঘাটে লোকসমাগম কমে গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্যও স্থবির। ছিন্নমূল মানুষ, দিনমজুর ও কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে। জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান। তিনি জানান, বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ এবং মাঝারি কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা নেমে এসেছে ৩০০ মিটারে।শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেষ বিশ্বাস বলেন, শীতে নিউমোনিয়া, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। তবে এখনও হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি নয়।

কিশোরগঞ্জে শৈত্যপ্রবাহের কারণে দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা কাজ হারাচ্ছেন। শহরের আখড়াবাজার শ্রমের হাটে গিয়ে দেখা গেছে, অর্ধশতাধিক শ্রমিক কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকলেও কাউকে কাজে নেওয়া হচ্ছে না। মাটিকাটা শ্রমিক জুয়েল মিয়া বলেন, কাজ না পেলে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।একই চিত্র দেখা যাচ্ছে কৃষি খাতেও। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উঁচু এলাকার বোরো ধানের নতুন বীজতলায় শীতজনিত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে দিনের বেলায় রোদ উঠলে ক্ষতি কিছুটা কমতে পারে। শীত মোকাবিলায় বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তারা জানান, বরাদ্দ অনুযায়ী কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে।আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আগামীকাল শনিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৫ জানুয়ারির পর আবারও শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা রয়েছে।

টানা পাঁচ দিন পর সূর্যের দেখা মিলেছে রংপুর অঞ্চলে। গতকাল কিছুটা রোদ উঠলেও দুর্ভোগ কমেনি শীতার্ত মানুষের। ভোরবেলা ও সন্ধ্যা থেকেই হিমেল হাওয়া ও কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারদিক। গতকাল রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করেছে। এসব জেলায় কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন।সকাল ৬টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঠাকুরগাঁওয়ে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং দিনাজপুরে ৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও নীলফামারীর ডিমলায় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সৈয়দপুরে ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ১১ ডিগ্রি, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি এবং রংপুরে ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।টানা কয়েক দিন ধরে রংপুর অঞ্চলে এমন আবহাওয়া মোকাবিলায় শীতবস্ত্র না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন নগরীর ছিন্নমূলসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। অন্যদিকে, নানা শীতজনিত রোগে ভুগছেন শিশু-বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সীরা।ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে টানা পাঁচ দিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, আর ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ; বিশেষ করে দরিদ্র ও দিনমজুর পরিবারগুলো। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেও বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। গতকাল দুপুর ১টা ৩৬ মিনিটেও সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশায় পথঘাট, মাঠঘাট ঢেকে ছিল।