NEWSTV24
ড. ইউনূস থাকুক, তবে ভোট ডিসেম্বরেই চায় বিএনপি
শনিবার, ২৪ মে ২০২৫ ১৬:১৩ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগের আলোচনা সামনে আসার পরও জাতীয় নির্বাচনের পথনকশার (রোডম্যাপ) দাবিতে অনড় বিএনপি। বিএনপির ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, তাদের চাওয়া প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূস থাকুক, কিন্তু ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা করুক।আবার অন্তর্বর্তী সরকারের জন্যও এই মুহূর্তে বিএনপির সমর্থন অনেক জরুরি। শুধু নির্বাচনই নয়, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সফলভাবে সরকারের দায়িত্ব শেষ করতে এটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকার-ঘনিষ্ঠদের চাওয়া, সমর্থনের ঘোষণাটা বিএনপির দিক থেকে আসুক।যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গতকাল শুক্রবার বলেছেন, একান্তই যদি তিনি (ড. ইউনূস) দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তাহলে রাষ্ট্র তো বসে থাকবে না। রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে বিকল্প ব্যবস্থা নেবে। পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়।অবশ্য প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য থাকলেও আজ শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলতে তাঁর সরকারি বাসভবন যমুনায় যাবেন বিএনপি নেতারা। অন্যদিকে সন্ধ্যায় সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিরা। যমুনা এবং রাজনৈতিক সূত্র  এ তথ্য জানিয়েছে।জামায়াতে ইসলামী, চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), হেফাজতে ইসলামের মতো দলগুলোর সমর্থন আগের মতোই পাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরা সংস্কারের পর নির্বাচনের কথা বলছে।বিএনপির সূত্র জানায়, তারা গতকাল মিত্র দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেছে। এই দলগুলো আগে থেকেই নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে একমত। প্রধান উপদেষ্টার বিষয়েও এখন তারা বিএনপির মতকে সমর্থন করছে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো নেতা ফেসবুকে এ বিষয়ে মত প্রকাশও করেছেন। বামপন্থি দলগুলো নির্বাচনের রোডম্যাপ চাচ্ছে।

ড. ইউনূসের পদত্যাগের আলোচনার পর রাজনৈতিক দলগুলোর নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার রাত থেকে বিভিন্ন দল পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। একাধিক দল নিজেদের মধ্যে বৈঠকও করেছে। উত্তেজনা প্রশমনেও কেউ কেউ কাজ করছেন বলে সূত্র জানায়।ব্যাংককে চিকিৎসাধীন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট দূরের একমাত্র পথ দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা। অন্য কথা বলে লাভ নেই। বিচার ও সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া।এনসিপির পর জামায়াতও নির্বাচনের পাশাপাশি সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, অনেক ত্রুটি থাকলেও জাতীয় স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন ও সংস্কারের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করলে সবার সন্দেহ-সংশয় কেটে যাবে।এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গতকাল ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানান, ড. ইউনূসকে সংস্কার, বিচার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। তাঁকে দায়িত্বে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সমস্যার সমাধান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র, সংস্কার ও নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচনের আগে বিচারের রোডম্যাপ আসতে হবে।

সরকারকে সমর্থন জানিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন চরমোনাই পীর তথা ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়ার বিষয় আছে, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলে দাবি-দাওয়া আদায়ের রাজনীতি ও পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে। বিএনপির অবস্থান বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে দুষছেন বিএনপি নেতারা। দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, সরকার নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে নানা ইস্যুতে সময়ক্ষেপণ করছে। তারা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছে না। সবার মধ্যে সংশয়, সন্দেহ আর সৃষ্ট বিভেদ থেকে বর্তমান ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি নেতারা বলছেন, উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা। নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।বিএনপি এবং তার মিত্র দলগুলো বলছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগতাড়িত হওয়ার কিছু নেই। নিজের দুর্বলতায় পরিস্থিতি সামলাতে যখন সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হচ্ছে, তখন পদত্যাগের বার্তা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি হুমকি বা চাপ বলে মনে করছেন তারা।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ড. ইউনূস পদত্যাগ করতে চাইলে, তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিএনপি কখনও তাঁর পদত্যাগ দাবি করেনি। নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা না করে যদি তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চান, তা তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে একান্তই যদি তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তাহলে রাষ্ট্র তো বসে থাকবে না। রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে বিকল্প ব্যবস্থা নেবে। পৃথিবীতে কেউ অপরিহার্য নয়। তিনি বলেন, ড. ইউনূস একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবেন এবং জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক নুরুল হক নুর বলেন, সরকার যখন নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ তখন তাদের ইমেজ ধরে রাখতে এবং নির্বাচনী রোডম্যাপের দাবি যখন জোরালো হচ্ছে তখন এ ধরনের একটা নাটক তৈরি করে দাবিকে এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে।