মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে হামলার ‘দায়’ নিল আইএসসেই নিখিলের সঙ্গে নুসরাতের বিয়ে?লাখো মুসল্লির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে জাতীয় ঈদগাহমধ্যরাতে ফের রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের অবস্থানশাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া, দুই সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা
No icon

বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ৫ম বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত গোলটেবিল থেকে এ দাবি জানানো হয়। নিরাপদ সড়ক : আমাদের দায়িত্ব শীর্ষক গোলটেবিলের আয়োজন করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, আইন না মানার কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। ফলে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানামুখী তৎপরতা দেখা গেলেও বাজেটে তার কোনো প্রতিফলন হয় না। আমাদের দেশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ কার্যক্রমের জন্য অর্থনৈতিক কোনো কোড নেই। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালক প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, আক্রান্তদের উদ্ধার, চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।

মোজাম্মেল হক বলেন, বিশ্বব্যাপী সড়ক নিরাপত্তা এখন প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে পৃথিবীতে প্রতিবছর ১.২ মিলিয়ন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। আহত হয় ২০ থেকে ৫০ মিলিয়ন। সংস্থাটির হিসাব মতে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে সারা বিশ্বের নিবন্ধিত যানবাহনের মাত্র ৪৮ শতাংশের শেয়ার নিয়ে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনার দায় কাঁধে নিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত চার থেকে পাঁচ দশক ধরে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। তবে এসব দেশে এখনও সড়ক দুর্ঘটনাকে মৃত্যু ও পঙ্গুতের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২১ হাজার ৩১৬ জন। ২০১৬ সালে ২৪ হাজার ৯৫৪ জন নিহত হয়েছেন। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে তিন হাজার ৬৩৮ জন।

গাড়ির গতিসীমার ওপর সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করে জানিয়ে মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের জাতীয় মহাসড়কগুলো আন্তর্জাতিক মানের নয়। সেই হিসেবে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানোর সুযোগ-সুবিধা থাকলেও চালানো হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে। ফলে প্রাণহানি ও সম্পদহানি বেশি হচ্ছে। গতির কারণে সংঘর্ষে গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে প্রাণহানি বাড়ছে। জাতিসংঘ নির্দেশিত লক্ষ্য অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সড়ক নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে সব জাতীয় মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস রোড তৈরির দাবি জানানো হয়।

আলোচনা সভায় বিআরটিএর সাবেক চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয় বা নেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু জবাবদিহির জায়গাটি নিশ্চিত করা হয় না। আমাদের এখানে যারা নীতিনির্ধারণ করেন, তারাই আবার মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি। জবাবদিহির ব্যাপারে অনাগ্রহের কারণ স্বার্থের সংঘাত। দেশে আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। সড়ক পরিবহন আইন ২০১১ সালে প্রণয়ন করা হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। আইসিটি আইন প্রণয়ন করা গেলে এটি কেন করা যাবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, ট্রাফিক সিগন্যাল চালু থাকলে পথচারীরা সচেতন থাকেন। কিছুক্ষণ পর গাড়ি চলবে বলে তারা আশ্বস্ত থাকেন। কিন্তু আমাদের সড়কে সেটা করা সম্ভব হয়নি।