অধ্যক্ষ সিরাজের পক্ষে আদালতে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবীঢাকার ৮৪ শতাংশ বহুতল ভবনই ত্রুটিপূর্ণরাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে আউট সোর্সিংয়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থী নিয়োগসুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছেবেশি দামে টিকিট বিক্রি : হানিফ এস আর ট্রাভেলসকে জরিমানা
No icon

মুরগির এত দাম!

দেশি মুরগির আকালের মধ্যে ভোক্তাদের আমিষের সিংহভাগ চাহিদা মেটায় ব্রয়লার মুরগি। কুমিল্লার বাজারে দুই মাস ধরে এই মুরগির দাম বাড়ছে। এই সময়ের মধ্যে মুরগির দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪০ টাকা করে। এতে নাকাল হয়ে পড়েছেন ভোক্তারা। কেবল মুরগির দাম নয়, বাজারে এখন ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা করে। পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা করে। এতে অল্প আয়ের মানুষের আমিষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। মুরগির খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুরগির খামারের মালিকেরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। মুরগির খাবারের দামও বাড়তির দিকে। এ কারণে মুরগির দাম বাড়ছে। নগরের রাজগঞ্জ শাহি ব্রয়লার হাউসের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত জানুয়ারিতে সাদা ব্রয়লার মুরগি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হতো। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। সোনালি কক মুরগির কেজি ছিল ২১০ থেকে ২২০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা করে। ব্রয়লারের এক দিনের বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৬৪ টাকা করে। সোনালির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। পূর্ব বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা ইমরুল হাসান বলেন, বাসায় বাচ্চারা মুরগির মাংস না থাকলে প্লেটে হাত দিতে চায় না। কিন্তু দাম বাড়ার কারণে সব সময় মুরগির জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুরগির এক খামারি বলেন, ব্রয়লারের এক দিনের বাচ্চা এনে কমপক্ষে ৩২ দিন রেখে খাবার দিতে হয়। এরপর বাজারে বিক্রি করা হয়। সোনালি মুরগির বাচ্চা দুই থেকে আড়াই মাস পালতে হয়। এ সময় মুরগির খাবার, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়। এ কারণে মুরগির দাম বাড়তি।

সদর দক্ষিণ উপজেলার চৌয়ারা, লালমাই, বিজয়পুর, সুয়াগাজী, রতনপুর, ধর্মপুর, বুড়িচং উপজেলার নিমসার, কংশনগর, পারুয়ারা, আদর্শ সদর উপজেলার ধনুয়াখোলা, আমড়াতলী, বালুতোপা এলাকার বেশির ভাগ খামারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে তাঁরা মুরগি ও ডিমের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।

আদর্শ সদর উপজেলার কালীরবাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখোলা গ্রামের জেড এইচ অ্যাগ্রো পার্কের স্বত্বাধিকারী জিয়াউল হক বলেন, এই মৌসুমে আবহাওয়া খারাপ। কখনো গরম, কখনো ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে। এই সময়ে প্রচুর মুরগি মারা যাচ্ছে। এর মধ্যে যেগুলো টিকে আছে, তা দিয়ে আমিষের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে মুরগি ও ডিমের দাম বাড়তির দিকে।