আমার দলেই কেউ কেউ আমার মৃত্যু কামনা করে: মমতাভাস্কর্য নিয়ে আমরা সরাসরি কোনো সংঘাতে যাব নাতেল চড়ছেই, অস্থির স্বর্ণইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যে শর্ত সৌদিরসেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে: বিজিবিকে প্রধানমন্ত্রী
No icon

ধামরাইয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিককে গলা কেটে হত্যা

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে গলা কেটে ও ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'বিজয় টিভির' সাংবাদিক ও ধামরাই প্রেসক্লাবের দুইবারের নির্বাচিত সহ-সভাপতি জুলহাস উদ্দিনকে। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ধামরাই উপজেলার বারবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত জুলহাস উদ্দিন ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতকোরা গ্রামের মৃত রইস উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করে স্থানীয় জনতা। তারা হলেন- সাংবাদিক জুলহাসের দ্বিতীয় স্ত্রী সোমা আক্তারের সাবেক স্বামী শাহিন (৩৫) ও তার সহযোগী মোয়াজ্জেম (৩২)। স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার হাতকোরা গ্রামের বাসিন্দা ও সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিন কয়েক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন তোরা মিয়ার মেয়ে সোমা আক্তারের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় সোমার বাবা মামলা মোকদ্দমা করে মেয়েকে অন্যত্র পাত্রস্থ করেন।

সেখানেও মেয়ে ঘর সংসার না করায় ফের মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানার বাররারচর গ্রামের বিশু মিয়ার প্রবাসী ছেলে শাহীন আলমের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেন। স্বামী প্রবাসে থাকায় সোমা আক্তার ফের সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনের সঙ্গে ঘর বাঁধেন প্রবাসী স্বামীর এক কন্যা সন্তান নিয়ে এসে। এরপর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিবাদে তাদের সংসার আবার ভেঙে গেলে সোমা আক্তার নিরুপায় হয়ে ফের পিত্রালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে আবার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে ঘর বাঁধেন।

সোমার স্বামী প্রবাস থেকে ফিরে তার এসব অপকর্মের কথা শুনে ক্ষিপ্ত হন। এরপর থেকে সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন এবং প্রকাশ্যে হুমকিও প্রদান করে বলে এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে মানিকগঞ্জে একটি গ্যারেজে জুলহাস তার প্রাইভেটকার মেরামতের জন্য যান। গাড়ির মেরামত কাজ শেষ না হওয়ায় দুপুর আড়াইটার দিকে গণপরিবহণে করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই উপজেলার বারবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে নামেন। একই গাড়িতে আসেন জুলহাসের দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বামী প্রবাসী শাহীন আলম ও তার অন্য সহযোগীরা।

এসময় পেছন থেকে তারা সাংবাদিক জুলহাস উদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে এবং গলা কেটে জখম করে। এ সময় স্থানীয়রা ঘাতকদের মধ্যে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। অন্যরা পালিয়ে যায়।

আহত সাংবাদিককে গুরুতর আহতাবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক আরিফুর রহমান এই মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওই রোগী হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে।

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে জুলহাসের দ্বিতীয় স্ত্রীর সাবেক স্বামী শাহিন ও তার সহযোগী মোয়াজ্জেম জুলহাসের গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই হত্যাকারী দুজনকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় জনতা। পরে ওই দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করে।

ঘটনাস্থল বাড়বাড়িয়া এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।