ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালকে ৬ লাখ টাকা জরিমানাজীবন বাঁচাতে কাতারে আশ্রয় নিয়েছেন আমিরাত যুবরাজ!জোট সম্প্রসারণে ‘আপত্তি’ শরিকদেরআমি মনে-প্রাণে একজন ফিলিস্তিনি: ম্যারাদোনাজাপানের ৬ হাজার পরমাণু বোমার সরঞ্জামে আতঙ্কে চীন
No icon

গলা ধরে চুলার মধ্যে দিছিলাম

যশোরের অভয়নগরে ১০ বছরের এক শিশুকে জ্বলন্ত কাঠ দিয়ে প্রহারের পর গলা ধরে চুলার মধ্যে ফেলেছে এক মিষ্টি দোকানী। এতে শিশুটির সারা শরীর আগুনে পুড়ে গেছে।আহত শিশুটি বর্তমানে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিষ্টি দোকানীকে আটক করেছে পুলিশ। আহত আলফাজ আকুঞ্জী (১০) উপজেলার শুভারাড়া ইউনিয়নের হিদিয়া গ্রামের মফিজ আকুঞ্জীর ছেলে। এ ঘটনায় রোববার অভয়নগর থানায় মামলা হয়েছে।এর আগে শুক্রবার রাত ১০টায় হিদিয়া বাজারে মিজান আকুঞ্জীর মিষ্টির দোকানে এ ঘটনাটি ঘটে। আহত শিশু আলফাজ বলে,আমার ভাই ভ্যান চালায়। আমাকে ওদের দোকানে পাঠিয়েছিল তাদের দোকানের কোনো মালপত্র বাজার থেকে আনতে হবে কিনা? তা জানতে। আমি ওই দোকালে গেলে দোকানদার বলেন, দেরি করে আসলি কেন? এ কথা বলতে না বলতে মিষ্টি বানানো বাদ দিয়ে তিনি চুলার জলন্ত কাঠের আগুন দিয়ে আমাকে মারতে থাকে। আমি ভয়ে চিৎকার করলে পার্শ্ববর্তী দোকানে থাকা লোকজন এসে তার কাছ থেকে আমাকে ছাড়িয়ে নেয়। এ সময় সে আবার এসে আমার গলা টিপে ধরে। তারপর গলা ধরে আমাকে চুলার মধ্যে দিয়ে দেয়। তখন আমার পিঠ ঘাড় ও বুকের একটা অংশ পুড়ে যায়।

শিশুটি আরও জানায়, চুলাতে যখন আমাকে ফেলে দেয়, তখন পাশের অনেক লোক চলে আসে। এমন সময় পকেট থেকে বেশ কিছু টাকা দোকানে ছড়িয়ে দিয়ে বলতে থাকে, ও আমার টাকা চুরি করে পালাচ্ছিল। তাই ধরে কাঠ দিয়ে পিটাইছি।

শিশুটি আরও জানায়, আগের শত্রুতা থেকে আমাকে এভাবে পিটাইছে। আমি চুরি করিনি। কী শত্রুতা জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, পাশের এক মহিলার সঙ্গে দোকানদারের সম্পর্ক ছিল। যা ঘরের ভেতর আমার আব্বা ধরে ফেলে। সেই থেকেই আমাদের মারার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে সে (মিজান)।

এ বিষয়ে হামলাকারী মিজানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমার দোকান থেকে টাকা চুরি করে পালাচ্ছিল। আগেও দুদিন নেছে। (শুক্রবার) রাতে আমি তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলি।

কীভাবে পিটিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমে চুলার কাঠ দিয়ে বেশ কটা পিটান দিছি। তারপর গলা ধরে চুলার মধ্যে দিছিলাম। তাতে হয়তো শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যেতে পারে।

হিদিয়া আলিম মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মুজিবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই আমার বংশের লোক আপনি নিউজ করে সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েন না। তবে কাজটা ঠিক হয়েছে কি-না জানতে চাইলে, তিনি বলেন, রোববার সন্ধ্যায় বসে শালিসের মাধ্যমে সামাধান করব।

এ বিষয়ে ছেলেটির বাবা মফিজ আকুঞ্জী জানান, ছেলেকে আহত অবস্থায় বাশুয়াড়ী ক্যাম্পের পরামর্শে অভয়নগর থানার ওসি সাহেবকে দেখিয়ে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছি।

এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি শেখ গণি মিয়া বলেন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ,মাদকসহ শিশুদের ওপর কোনো রকম নিপীড়ন বরদাস্ত করা হবে না। এসব নির্যাতনকারীদের কোনো ছাড় নেই।