সৌদি আরবে হামলাএনামুল বাছিরের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণনেতৃত্বের প্রশ্নে জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব নেই: জিএম কাদেরশ্রীলংকার বিপক্ষে জয়ের পথে বাংলাদেশপরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে হত্যাকাণ্ড, জড়িতদের শাস্তি পেতেই হবে
No icon

রোহিঙ্গারা যাতে সসম্মানে ফিরতে পারে, সে আহ্বান জানাচ্ছি

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয়ায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ বেড়েছে। রোহিঙ্গারা যেন তাদের ভিটেমাটিতে সসম্মানের সঙ্গে ফিরে যেতে পারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিশ্ববাসীর কাছে সেই আহ্বান জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। সোমবার (২৭ মে) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ৭৫তম জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কমিশনের (এসকাপ) বার্ষিক অধিবেশনের উদ্বোধন করা হয়। থাই রাজকুমারী এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল যোগ দেয়। উদ্বোধনের পর বিকেল ৩টায় সভা সেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতার মাধ্যমে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই।’ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে। ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে আমাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ এসেছে, সামাজিক চাপ এসেছে। আমরা তাদের সাময়িকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করছি বা খাওয়া-পরা দিচ্ছি।’

‘আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি দাবি জানাচ্ছি যে, তারা বিষয়গুলো দেখবেন এবং রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজ ভূমিতে, ভিটেমাটিতে ফিরে যেতে পারেন, সসম্মানে ফিরতে পারেন- সেটা নিশ্চিত করার জন্য আমি জাতিসংঘ তথা সারাবিশ্বের মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি- যোগ করেন এম এ মান্নান।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র এ সময় তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে অর্থনীতির যে উত্তরণ ঘটছে, বিশেষ করে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হচ্ছি দ্রুত। আমাদের মাথাপিছু আয় বাড়ছে, প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। আমাদের স্বাক্ষরতার হার বেড়েছে, মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। সুপেয় জল বা পানি সরবরাহের হার বেড়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করেছেন, তার উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য দূরীকরণ, একটি গণতান্ত্রিকসমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেটা ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বসভায় নিজের স্থান করে নেবে।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে পরিকল্পনামন্ত্রী ছাড়াও রয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ, থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল কাউনাইন, ইআরডির যুগ্ম সচিব আব্দুল বাকী, ব্যাংককে নিযুক্ত ইকোনমিক কাউন্সিলর কবির আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, ইআরডির যুগ্ম সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।