NEWSTV24
ইসরাইলি নির্বাচনে নাটকীয় মোড়: নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ‘কিংমেকার’ আরব দলগুলো
রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ ১৮:২১ অপরাহ্ন

NEWSTV24

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের বুকে দীর্ঘকাল ধরে চলা জায়নবাদী আগ্রাসন ও রাজনৈতিক মারপ্যাঁচের মাঝে এবার খোদ ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক মোড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরাইলের জাতীয় সংসদ (নেসেট) নির্বাচনে লড়াকু আরব দলগুলো সব সমীকরণ উল্টে দিয়ে একক ‘কিংমেকার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘদিনের বর্ণবাদী অবহেলা ও কোণঠাসা অবস্থা ভেঙে এবার ইসরাইলের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদী কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে চিরতরে উৎখাত করতে তারা চূড়ান্ত চাল চালার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের খবরটি বিশ্বমঞ্চে উঠে এসেছে। ইসরাইলের আরব নাগরিক ও ফিলিস্তিনি অধিকার আন্দোলনের শীর্ষ সংগঠন ‘মোসাওয়া সেন্টার’-এর পরিচালক জাফর ফারাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী আরব দলগুলো ইসরাইলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ-এর সাথে দেখা করে নেতানিয়াহু-বিরোধী জায়নবাদী বিরোধী জোটকে সরকার গঠনে সমর্থন দেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে। 

ভোটের সমীকরণ ও সংসদীয় অচলাবস্থা : 

ইসরাইলের সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির (সিইসি) চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১ আসন) পায়নি।

নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ব্লক: ৫৩টি আসন (যার মধ্যে নেতানিয়াহুর নিজস্ব লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন)। গাদি আইজেনকোটের বিরোধী জোট ৪৮টি আসন।আরব দলগুলোর জোট (জয়েন্ট লিস্ট ও রা’ম) রেকর্ডসংখ্যক ১৯টি  আসন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আরব দলগুলোর এ ১৯টি আসনের ঐতিহাসিক সমর্থন ছাড়া সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট বা নেতানিয়াহু- কারো পক্ষেই সরকার গঠন করা সম্ভব নয়। আর আরব দলগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো উগ্র ডানপন্থী ও যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহুর পতন নিশ্চিত করা। 

নেতানিয়াহুর পরাজয়ের আতঙ্ক ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা :

নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর নিশ্চিত আভাস পেয়ে এবং নিজের দুর্নীতি মামলার বিচার ও ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তা ব্যর্থতার তদন্তের হাত থেকে বাঁচতে নেতানিয়াহু এবার চরম নোংরা খেলায় মেতে উঠেছেন। কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই নেতানিয়াহু ও তার দল লিকুদ দাবি করেছে যে, ‘আরব দলগুলো কাতার ও তুরস্কের অবৈধ অর্থায়নে এ নির্বাচন চুরি করেছে’। এমনকি ইসরাইলের ডানপন্থীরা আরব নাগরিকদের বিপুল ভোটদানকে ‘নির্বাচনী সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই-জেনারেটেড বর্ণবাদী ভুয়া ছবি ছড়াচ্ছে। তবে ইসরাইলের নির্বাচন কমিশন নেতানিয়াহুর এ ভোট চুরির অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।


তেল আবিবে গণবিক্ষোভ :

এদিকে নেতানিয়াহুর এ প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে এবং আরব দলগুলোর সাথে জোট বেঁধে সরকার গঠনের দাবিতে তেল আবিবের হাবিমাহ স্কোয়ারে হাজার হাজার সাধারণ ইহুদি ও আরব নাগরিক একযোগে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। তাদের স্লোগান ছিল- নেতানিয়াহু একজন ‘মহা-প্রতারক’ এবং তাকে হঠাতে ইহুদি-আরব যৌথ সরকার গঠনই এখন একমাত্র পথ।

ইসরাইলের ইতিহাসে আরব দলগুলোকে সবসময় ‘অবৈধ ও অস্পৃশ্য’ ভাবা হলেও বর্তমান গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মাঝে তাদের এ ১৯টি আসনই এখন ইসরাইলের ভাগ্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ জুড়ে চলা এ জটিল কোয়ালিশন আলোচনা যদি ব্যর্থ হয়, তবে আগামী বছরের শুরুতে দেশটিতে আবারও নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সেই পর্যন্ত নেতানিয়াহু কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ।