NEWSTV24
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৫টি শহরে ইসরায়েলি অভিযান, আটক বহু ফিলিস্তিনি
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:১৫ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্তত ১৫টি শহর ও জনপদে অভিযান চালিয়ে বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শনিবার (২৪ অক্টোবর) আলজাজিরার সংবাদদাতারা এ তথ্য জানিয়েছেন। হেবরনে হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুরো পশ্চিম তীরে অবরোধের নির্দেশ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব অভিযান চালানো হয়।

উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুস, জেনিন, তুবাস ও কালকিলিয়াসহ বিভিন্ন শহর ও জনপদে অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। নাবলুসের জালুদ ও কারিউত গ্রামে ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়। জেনিনের কাছে আররাবেহ ও বুরকিনেও আটকের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তুবাস ও পাশের আক্কাবা শহরে প্রবেশ করে ইসরায়েলি সেনারা।

 দক্ষিণ পশ্চিম তীরের হেবরনে একটি তিনতলা ভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ভবনটির বাসিন্দাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হেবরনের আইন দেইর বাহা এলাকা ও আশপাশের স্থানগুলো থেকে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে জোরপূর্বক বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হেবরনে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের একজনের বাড়ি ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি সেনারা। এ সময় শহরটির আল-জালদা এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়।

শুক্রবার রাতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, হেবরনে তাদের অভিযান কয়েক দিন ধরে চলবে। পাশাপাশি পশ্চিম তীরের আরও কয়েক ডজন এলাকায় অভিযান চালানোর কথাও জানানো হয়। পূর্বদিকে জেরিকো শহর এবং পাশের আকাবাত জাবর শরণার্থীশিবিরেও প্রবেশ করে ইসরায়েলি বাহিনী। অবরোধের আওতায় পশ্চিম তীরজুড়ে প্রায় এক হাজার চেকপোস্ট ও প্রবেশপথ বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে লাখ লাখ ফিলিস্তিনির চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তেলেম নামের একটি ইসরায়েলি বসতির কাছে রিজার্ভ সেনাদের একটি ব্যাটালিয়নে হামলা চালানো দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীকে হত্যা করেছে তারা। ওই হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। ইসরায়েলের জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা জানিয়েছে, নিহত দুই সেনার পাশাপাশি আরও অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পরই নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরে পূর্ণ অবরোধের নির্দেশ দেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ।

এদিকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলার অভিযোগও বেড়েছে, বিশেষ করে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির দুই সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলি সরকার সেখানে আরও বসতি নির্মাণে উৎসাহ দিচ্ছে।

ফিলিস্তিনের ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ রাজনৈতিক দলের মহাসচিব মুস্তাফা বারঘুতি বলেছেন, ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী মন্ত্রীদের উসকানিমূলক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। আলজাজিরাকে বারঘুতি বলেন, পশ্চিম তীরের শহর ও গ্রামগুলোর প্রবেশপথ এবং চেকপোস্ট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রতিটি এলাকা ‘ছোট কারাগারে’ পরিণত হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর এ ধরনের সামষ্টিক শাস্তি আরও বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা