শনিবার বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’ শিরোনামে ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি। তার পোস্ট অনুযায়ী, গেন্ডারিয়া রেললাইনের কাছে একটি কথিত ‘মাদকের আস্তানা’ লক্ষ্য করে অভিযানটি চালানো হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাকসহ কয়েকজন একটি গাড়ি থেকে নেমে একদল লোককে ধাওয়া করছেন। এ সময় ইশরাক ও তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওটির কিছু অংশে অস্ত্র ঝাপসা করে দেওয়া হয়েছে।
একপর্যায়ে ওয়াকিটকিতে কথা বলতে বলতে ইশরাককে কয়েকজনকে ‘দাঁড়া’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর কথা হবে বলেও তাকে বলতে শোনা যায়।
ভিডিওর আরেকটি অংশে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে থাকা একজন কয়েকজনের দিকে অস্ত্র তাক করছেন এবং এক ব্যক্তিকে লাথি মারছেন। পরে ইশরাকের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের কয়েকজনকে আটক করতে দেখা যায়।
এ ছাড়া প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে পুলিশকে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রতিমন্ত্রীর একজন দেহরক্ষী পুলিশকে কয়েকজন মাদকসেবীকে আটকের তথ্য দেন।
ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা ইশরাকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, তিনি সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তারা কেউই প্রতিমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র দেখেননি বলে জানিয়েছেন। তবে ভিডিওতে তিনি নিজেও ইশরাকের হাতে অস্ত্র দেখেছেন বলে জানান।
আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে যা বলছেন সাবেক আইজিপি
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, জীবন বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি হলে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে অন্যদের মধ্যে ভয় বা অস্বস্তি সৃষ্টি হয়—এমনভাবে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ।
২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী, লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র আত্মরক্ষার প্রয়োজনে বহন বা ব্যবহার করা যায়।নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তারক্ষীরা ইউনিফর্ম ছাড়া জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করতে পারবেন না।