NEWSTV24
ইরানের ৭ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৩৬ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ 'হোরমুজ প্রণালী' সাত দিনের মধ্যে পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া একটি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই সাত দিনের বিশেষ রূপরেখা প্রস্তাব করেছিলেন। 

ইরানের প্রস্তাবের মূল বিষয়বস্তু:
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন যদি পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্ত মেনে নিয়ে আটকে রাখা ১২ বিলিয়ন ডলার ইরানি সম্পদ মুক্তি দেয়, তেল বিক্রির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের পাশাপাশি লেবাননসহ সব অঞ্চলে হামলা বন্ধ করে—তবে চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সপ্তম দিনে হোরমুজ প্রণালী সাধারণ নৌ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য সরাসরি আলোচনা শুরু হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া:
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে চরম সংশয় প্রকাশ করে তা খারিজ করে দিয়েছেন। ট্রাম্পের মূল দাবি, ইরানকে স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকতে হবে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই হোরমুজ প্রণালীতে মুক্ত নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ হোরমুজ প্রণালীর একটি মানচিত্র পোস্ট করে সেটির নাম দেন "ট্রাম্প প্রণালী" (Trump Strait)। ওয়াশিংটন বর্তমানে এই প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করলেও ইরান তা অস্বীকার করেছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে?
কূটনৈতিক আলোচনা থমকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মার্কিন সরকারের শীর্ষ সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের (Midterm Elections) পর ইরানজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের বোমাবর্ষণ অভিযান শুরু করতে পারেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

জাতিসংঘের মঞ্চেও এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, কূটনৈতিক সমাধান না এলে ইরানকে "ধূলিসাৎ" করার পথ খোলা থাকবে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিদ্যমান এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।