যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের ধারণার চেয়েও দুর্বল বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজা নকদি। বুধবার পিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। তবে এটি নকদির নিজস্ব মূল্যায়ন, স্বাধীনভাবে যাচাই করা সামরিক সক্ষমতার পরিসংখ্যান নয়।
সাক্ষাৎকারে নকদি বলেন, সংঘাত শুরুর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পর্কে ইরানের যে ধারণা ছিল, বাস্তবে তাদের সক্ষমতা তার চেয়েও কম বলে মনে হয়েছে। তাঁর দাবি, চলমান সংঘাতের মধ্য দিয়ে ইরান মার্কিন বাহিনীর সক্ষমতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে আরও বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। নকদি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা বিজয়ী রয়েছি। ভবিষ্যতেও আমাদের এই বিজয়ের ধারা বজায় থাকবে।’ তাঁর বক্তব্যে তিনি সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে ইরানের অভিজ্ঞতা বাড়ার কথাও তুলে ধরেন।
আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাত পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা আগে ইরানের ছিল না। গত কয়েক মাসের সংঘাত তাদের সেই অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন দুর্বলতা পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নকদির এসব মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্দিষ্ট শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুরোপুরি সচল করা হবে না।
মার্কিন ও ইরানি সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা এর আগেও পরস্পরবিরোধী দাবি করেছেন। ফলে নকদির বক্তব্যকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁর দাবির স্বাধীন কোনো সামরিক যাচাই বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই দুই দেশের সামরিক সক্ষমতা, অস্ত্রের মজুত এবং যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হচ্ছে। তবে নকদির বক্তব্যের মতো রাজনৈতিক ও সামরিক দাবিগুলো মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন সূত্রের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।