কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৭০টির বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর পরপরই বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পেরেইরা ও ক্যালি শহরে।
ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকারীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক জায়গায় ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থারও ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।
ক্যালিতে একটি সাততলা আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। সেখানে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা কংক্রিটের স্তর সরিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কোনো জীবিত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার আশায় মাঝেমধ্যে উদ্ধারকাজ থামিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শব্দ শোনার চেষ্টা করছেন তারা।
ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পনগুলোও উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে। ৭০টির বেশি আফটারশকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
কলম্বিয়ার নতুন সরকারও দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসের ব্যাপকতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতির কারণে পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা