NEWSTV24
অভিবাসী ঠেকাতে সাগরে ভাসমান প্রতিবন্ধক বসাচ্ছে স্পেন
রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬ ১৮:৪৭ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

রক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসী ঢলের পর সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ৫০০ মিটার (প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট) দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক স্থাপন শুরু করেছে স্পেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং নতুন করে গণ-অনুপ্রবেশ রোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ জুলাই মরক্কো থেকে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী স্থল ও সমুদ্রপথে সেউতায় প্রবেশ করেন। স্পেনের তথ্যমতে, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৪৮ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় অথবা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মরক্কোতে ফিরে গেছেন। তবে এ ঘটনায় অন্তত ৬৭ জনের প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ।

নতুন ভাসমান প্রতিবন্ধকটি পানির নিচে প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এর পাশাপাশি স্পেনের নৌবাহিনী অতিরিক্ত ভাসমান বয়া স্থাপন করবে, যাতে ছোট নৌকা বা সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রম করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে টহল ও উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

সেউতা সংকট ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইতালি, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্কসহ কয়েকটি দেশ স্পেনের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ পরিস্থিতিতে ইইউর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং ২২টি সদস্যদেশ যৌথভাবে বহিঃসীমান্ত সুরক্ষা জোরদারের দাবি জানিয়েছে।

সমালোচনার জবাবে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, সেউতার পরিস্থিতি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং অধিকাংশ অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। তাঁর দাবি, মানবপাচারকারী চক্র একটি আদালতের রায় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে এই গণ-অনুপ্রবেশে উৎসাহ জুগিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য নতুন ভাসমান প্রতিবন্ধক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, সমুদ্রে অতিরিক্ত বাধা সৃষ্টি করলে বিপজ্জনক সাঁতারপথ বেছে নেওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যা আরও প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করবে। অন্যদিকে স্প্যানিশ সরকার বলছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমুদ্রে উদ্ধার অভিযানও অব্যাহত থাকবে। সেউতা উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের একটি স্বায়ত্তশাসিত শহর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্তগুলোর একটি, যা আফ্রিকার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরেই এটি ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিবিসি, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস