NEWSTV24
ডিএসইতে গণছাঁটাই আতঙ্ক
রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গণছাঁটাই আতঙ্ক চলছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ, কারণ দর্শানোর সুযোগ কিংবা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়াই ধাপে ধাপে প্রায় ১৪০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে কয়েকজনের হাতে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়ার পর এক নারী কর্মকর্তা অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন এবং আরেক কর্মকর্তা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো ডিএসইজুড়ে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা গণছাঁটাই বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে আজ ডিএসই ভবনের সামনে এবং আগামী বৃহস্পতিবার বিএসইসির সামনে মানববন্ধনসহ ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।জানা গেছে, দেশের প্রধান শেয়ারবাজার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিয়ে এমন বিতর্ক শুধু ডিএসইর ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করবে না, বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর বর্তমান প্রশাসনের বেশকিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে করপোরেট সুশাসন ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে কোনো ধরনের যৌক্তিক কারণ ছাড়াই দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রচলিত নিয়ম ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে পছন্দের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।ডিএসইর ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসনের এই পক্ষপাতমূলক ও খামখেয়ালি আচরণে প্রতিষ্ঠানের কাজের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়ন করে অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিয়োগ-বাণিজ্য চালানো হচ্ছে, যা পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে চেপে রাখা এই ক্ষোভ এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার হাতে চাকরিচ্যুতির চিঠি তুলে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি চিঠি হাতে পাওয়ার পর ডিএসইর এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সহকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্যদিকে, আকস্মিক চাকরি হারিয়ে ভবিষ্যৎ অন্ধকার এবং পরিবারের চরম অনিশ্চয়তার কথা চিন্তা করে আরেক কর্মকর্তা আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সহকর্মীদের সময়োচিত হস্তক্ষেপে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও ওই কর্মকর্তার মানসিক অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এভাবে একের পর এক ছাঁটাইয়ের কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে উঠেছে। চাকরি অবসানের পর সংশ্লিষ্ট কয়েক কর্মকর্তা-কর্মচারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে জানা যায়।

অন্য দিনের মতো গত বুধবার ডিএসইর এক্সিকিউটিভ মরিয়ম আক্তার অফিসে আসেন। দিনের নিয়মিত কাজ করেন। দুপুরে খাবারে খেতে যাবেন এমন সময় তাকে প্রশাসনে ডেকে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে নিকুঞ্জস্থ ডিএসই ভবনের ১৩তলায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় তাকে নিরাপদে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাকে কেন চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে এ প্রশ্নের জবাব নেই কর্তৃপক্ষের হাতে। কারণ ছাড়াই আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।এক্সিকিউটিভ শারমিন এমদাদও অন্য দিনের মতোই অফিস করেন। তিনি তার ডেক্সে বসে কাজ করছিলেন এ সময় তাকে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং প্রায় এক ঘণ্টা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সহকর্মীর সহযোগিতায় তাকে বাসায় পাঠানো হয়। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি অসুস্থ রয়েছেন। কথা বলার মতো স্বাভাবিক অবস্থায় নেই।?সিনিয়র অফিস সহকারী এমরান হোসেন সম্প্রতি ওপেন হার্ট সার্জারি করিয়েছেন। চিকিৎসাজনিত ড্রেসিং সম্পন্ন করে অফিসে আসার পর দুপুরে তাকে চাকরিচ্যুতির চিঠি দেওয়া হয়। চিঠি পাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং অফিসে অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তাকে সহকর্মীদের সহযোগিতায় বাসায় পাঠানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

চাকরিচ্যুত এবং বর্তমানে ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ধরনের ছাঁটাইকে সম্পূর্ণ অন্যায়, বেআইনি ও অমানবিক বলে আখ্যায়িত করেন। করপোরেট সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মীদের এভাবে ছুড়ে ফেলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। উদ্ভূত ও অমানবিক পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে এবং নিজেদের রুটি-রুজি বাঁচানোর দাবিতে তারা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে ছাঁটাই প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে এবং পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর জরুরি ও সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এতগুলো পরিবারকে রাস্তায় বসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।কর্তৃপক্ষের এমন একপেশে ও অনমনীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী। নিজেদের অধিকার ও চাকরি রক্ষার দাবিতে তারা টানা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রবিবার ডিএসই ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কেবল ডিএসই ভবনের সামনেই তাদের এই প্রতিবাদ সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভবনের সামনেও মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।