NEWSTV24
ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন সিএনজি শ্রমিকরা: অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ১৫:৪৫ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

আতাউর রহমান 
সিনিয়র রিপোর্টার

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন সিএনজি শ্রমিকরা, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর শাহজাহানপুরে সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সিএনজি শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা  বলেন,
তিনি আরও বলেন 
 “২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ বাংলাদেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। ছাত্রদের আন্দোলনের সঙ্গে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে শ্রমিক সমাজ যুক্ত হওয়ায় এই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনে গণহত্যাকারীদের বিচার, জুলাই সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি. নং বি-২২২৩) আয়োজিত সিএনজি শ্রমিক সমাবেশ
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি জুবায়ের আল মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগরীর উপদেষ্টা আব্দুস সবুর ফকির,
 ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমেদ এবং কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু।
এছাড়া বক্তব্য দেন বিআরইএলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, দোকান শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, 
বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, পরিবহন শ্রমিক নেতা নুরুল আফসার পারভেজসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তির অস্তিত্ব সহ্য করতে পারত না। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। তারা কখনো ভাবেনি যে একদিন ক্ষমতা ছাড়তে হবে। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু তাদের ক্ষমতাচ্যুতই করেনি, বরং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছে।”
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আরও বলেন,
 “যারা হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করেছে, যারা শিশু, নারী ও তরুণদের রক্তে হাত রঞ্জিত করেছে, তাদের এ দেশের নতুন প্রজন্ম কখনো রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেবে না। ইতিহাস সাক্ষী, জনরোষে ক্ষমতাচ্যুত কোনো স্বৈরশাসক আর জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ফিরে আসতে পারেনি।”
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শহীদদের তালিকায় নারী-পুরুষসহ বহু শ্রমিকের নাম রয়েছে, যাদের মধ্যে সিএনজি শ্রমিকও আছেন। বাংলাদেশের প্রতিটি গণআন্দোলন ও অভ্যুত্থানে শ্রমিক শ্রেণি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।”
শ্রমিকদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিটি সরকার শ্রমিকবান্ধব হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে শ্রমিকদের সামাজিক মর্যাদা ও ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি। পর্যাপ্ত বাজেট ছাড়া শ্রমিক কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।”
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের ভারসাম্য রক্ষা ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোকে শক্তিশালী করতে হবে। শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের অধিকার আদায় করবে। আমরা চাঁদাবাজি করি না, কাউকে চাঁদাবাজি করতেও দেব না। আমরা জুলুম করি না, কাউকে জুলুম করতেও দেব না। বৈষম্য দূর করতে হলে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “হাজারো শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই পথ যেন আর কোনো স্বৈরাচারের হাতে না যায়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”