ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য কুমিরঘেরা বিশেষ আটককেন্দ্র নির্মাণের একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা আলোচনায় এসেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের প্রস্তাব বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রী ইদিত সিলমান নীল নদের কুমিরের আইনি শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন এনেছেন বলে জানিয়েছে হিব্রু গণমাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্দিষ্ট শর্তে কুমিরকে চিড়িয়াখানা বা সংরক্ষিত এলাকার বাইরে অন্য স্থাপনাতেও রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।
চ্যানেল ১৩-এর খবরে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বরে কারা বিভাগের প্রধান কোবি ইয়াকোবির সঙ্গে বৈঠকে প্রথম এ প্রস্তাব দেন ইতামার বেন গভির। পরে কারা বিভাগের কর্মকর্তারা উত্তর ইসরায়েলের হামাত গাদের কুমির খামার পরিদর্শন করে পরিকল্পনার সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।
তবে ইসরায়েলের প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে আসছে। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কুমির শিক্ষা, গবেষণা ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে রাখা যেতে পারে; কারাগারের নিরাপত্তায় ব্যবহার আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ওয়াইনেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টাও এ বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কারাগারে কুমির ব্যবহারের আইনি ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে সেই আপত্তির পরও পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান নতুন সিদ্ধান্ত জারি করেন।
হিব্রু গণমাধ্যমের দাবি, বেন গভির প্রথম ধাপে দক্ষিণ ইসরায়েলের কেৎজিওত কারাগারে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। সেখানে প্রধানত ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বন্দিদের রাখা হয়। যদিও পরিকল্পনাটি এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। পরিকল্পনাটি মানবাধিকার সংগঠন ও পরিবেশবিদদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের মতে, কারাগারের নিরাপত্তায় বন্যপ্রাণী ব্যবহারের ধারণা মানবিক ও আইনি—উভয় দিক থেকেই গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।