ভারতের অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজমহলকে ঘিরে বহু বছর ধরে চলা বিতর্কে নতুন মোড় এসেছে। তাজমহলের নিচে বা ভেতরে ‘তেজো মহালয়’ নামে একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে—এমন দাবিতে দায়ের করা আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট কেন্দ্র সরকার, ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ জারি করেছে। আদালতের এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিনের বিতর্কটি আবারও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় উঠে এসেছে।
হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিত রঞ্জন আগরওয়াল বলেন, বিষয়টি ভারতের সংবিধানের ২২৭ অনুচ্ছেদের অধীনে বিচারিক পর্যালোচনার উপযুক্ত। তিনি জানান, নিম্ন আদালতের আদেশ আইনসম্মত ছিল কি না এবং আবেদনকারীদের দাবি আরও বিচারিকভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন কি না, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে।
এর আগে আগ্রার দেওয়ানি আদালত তাজমহল প্রাঙ্গণে বৈজ্ঞানিক, প্রত্নতাত্ত্বিক ও সরেজমিন জরিপ চালানোর আবেদন খারিজ করে দেয়। পরে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনার আবেদনও জেলা আদালত নাকচ করে। এরপরই আবেদনকারীরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন।
সাম্প্রতিক শুনানিতে আবেদনকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হরি শঙ্কর জৈন এবং আইনজীবী সৌম্য শ্রীবাস্তব আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তারা বলেন, তাজমহলের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি, স্থাপত্য বিশ্লেষণ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে সেখানে কোনো প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার নিদর্শন রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব।