NEWSTV24
জ্বরের ৯৮% রোগীর ছিল চিকুনগুনিয়া
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গত বছর ব্যাপক মাত্রায় জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চিকুনগুনিয়া শনাক্ত হয়েছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা ধরা পড়েনি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর জ্বরে আক্রান্ত ৯৮ শতাংশ রোগী পরবর্তী সময়ে মশাবাহিত গুরুতর রোগ চিকুনগুনিয়ায় সংক্রমিত হয়েছেন।ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাঁচটি হাসপাতালের ৪৪২ জন রোগীর ওপর গবেষণা চালিয়ে এমন তথ্য পেয়েছেন একদল চিকিৎসক-গবেষক। তারা জানান, গবেষণা ছিল বহুমাত্রিক ক্রস-সেকশনাল। গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এটি পরিচালিত হয়।গবেষণায় দেখা যায়, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ৬০ শতাংশ নারী ও ৪০ শতাংশ পুরুষ। অনেককেই জ্বরে ভুগতে হয় টানা কয়েক সপ্তাহ। তাই পাঁচ দিনের ওপরে ভর্তি থাকতে হয় হাসপাতালেও। গবেষকরা জানান, এসব রোগীর মধ্যে শুধু শরীরের গিঁটে ব্যথায় কাতর হয়েছে সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ। ৭১ শতাংশের শরীরে মিলেছে অস্থিসন্ধিতে দুলুনি ও স্পর্শকাতরতা। এসব কারণে আক্রান্ত রোগীর ৭০ শতাংশই চলাফেরা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। আক্রান্তদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৬ শতাংশই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং আইজিএম পজিটিভ ৭৪ শতাংশের। রোগটি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ও বিষণ্ন ছিলেন ৪৯ শতাংশ।

গবেষণাটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের কারণে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জীবনমানের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা। গবেষণায় রোগীর মধ্যে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আগে জ্বরে আক্রান্ত সর্বোচ্চ ৪৩৩ জন, যা মোট রোগীর প্রায় ৯৮ শতাংশ। সর্বনিম্ন তিন দিন থেকে টানা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত জ্বরে কাবু থাকতে হয় এসব রোগীকে। ২২ শতাংশ রোগীকে একেবারে শয্যাশায়ী থাকতে হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকার পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীদের ওপর গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। দেশের তিনটি উন্নত ল্যাবে এসব রোগীর জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়। গত ১৭ এপ্রিল জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় সোসাইটি অব ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (ইএসসিএমআইডি) বৈশ্বিক সম্মেলনে গবেষণাটি উপস্থাপন করা হয়। সেখানে এটি প্রশংসা কুড়িয়েছে। গবেষণাটি পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা বোর্ড দ্বারাও অনুমোদিত।

বৃহৎ এই গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ট্রপিক্যাল ডিজিজ অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহাবুল হুদা চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনা ইসলাম, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আবু সাইফ মোহাম্মদ লুৎফুল কবির ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী, ডেল্টা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান সাদিয়া ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট (ল্যাবরেটরি মেডিসিন) তানজিন নাহার, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ডা. জান্নাতুল ফারদৌস, আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক রিফায়া তাসনিম, পপুলার মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক কাজী তরিকুল ইসলাম ও আসিফ আহমেদ, সাউদার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক মো. আতিকেল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট মাধবী কর্মকার, পিআই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মো. মাহির ফয়সাল আকাশ ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট মহিউদ্দিন শরীফ।