NEWSTV24
প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতায় প্রশাসনে গতি এসেছে
শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ ১৭:২৫ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন সময়ানুবর্তিতায়। সকাল ৯টার মধ্যেই তিনি সচিবালয়ে তার দপ্তরে ঢুকে পড়ছেন। এমন কি শনিবারও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিস করেছেন তিনি। এ কারণে মন্ত্রী, সচিবসহ প্রশাসনের সব স্তরে সময়মতো অফিস করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে সচিবালয়ে কাজের গতি বেড়েছে।বিষয়টি সাময়িক কোনো বিষয় নয়, তা বোঝাতে গতকাল পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে পরিপত্রটি জারি করা হয়েছে।এ বিষয়ে খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকার বলেন, এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে কাজ শুরু করতে পারলে অনেক বেশি কাজ করা যায় স্বাচ্ছন্দে। পরে মিটিং বা অন্য ব্যস্ততা থাকতেই পারে। আমরা ৯টার আগেই অফিসে ঢুকতে পারি। অত্যন্ত জরুরি সিদ্ধান্ত এটি।উন্নত বিশ্বে সকালে সরকারি অফিস করে সূর্যাস্তের আগেই সম্পন্ন করা হয়। এতে অল্প সময়ে কাজ বেশি করা যায়। শরীর ও মন সুস্থ থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে কর্তব্যে অবহেলা রুটিনওয়ার্কে পরিণত হয়ে আসছিল। সকাল ৯টার অফিসে কর্তাব্যক্তিরা ১০টার আগে অফিসে পৌঁছাতেন না। এতে পিছিয়ে যেত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ছিল মানুষের দুর্ভোগ। এর লাগাম টেনে ধরতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী-সচিবসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছেন। এর গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই নির্ধারিত সময়ের আগে অফিসে পৌঁছানো শুরু করেন। দেখাদেখি অন্যরাও সময় ধরতে এখন ব্যস্ত। ইতোমধ্যে একাধিক মন্ত্রী বিলম্বে অফিসে পৌঁছানোর কারণে কড়া সতর্কবার্তা পেয়েছেন। প্রশাসনের সব স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন যে কোনো মূল্যে সকাল ৯টার আগে কর্মস্থলে পৌঁছাতে ব্যস্ত। বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সবাই। তাদের মতে, আরও আগেই দেশে সময়ানুবর্তিতায় জোর দেওয়া উচিত ছিল। কল্যাণ রাষ্ট্রের বড় দৃষ্টান্ত সময়মতো অফিস করা।

দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অফিসে হাজির হচ্ছেন শীর্ষ কর্মকর্তারাও। অতীতের অভ্যাস পরিবর্তনে একটু সময় লাগলেও সচিবসহ সবাই চেষ্টা করছেন সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে ঢুকতে। প্রধানমন্ত্রী কৌশলে তাদের পুরনো অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য নিজেই নীরবে সবার আগে অফিসে উপস্থিত হয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করছেন। দীর্ঘদিনের চর্চা ছিলÑ শীর্ষ কর্মকর্তারা সময়মতো অফিসে উপস্থিত হন না। যে কারণে অধস্তন কর্মকর্তারাও সময়মতো অফিসে হাজির হওয়াটাকে জরুরি জ্ঞান করেন না। এটা যে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তারা বিষয়টি বেমালুম ভুলে গেছেন। ফলে সরকারি অফিসে আসার ক্ষেত্রে সময় মানেন না অধিকাংশ কর্মচারী।অন্যদিকে ফেরার সময়ও দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩০ মিনিট আগেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেরিয়ে পড়েন। সাধারণত সরকারি অফিসের রেওয়াজ হচ্ছে সকাল ১০টার আগে কোনো কোনো কর্মকর্তা আসবেন না। কর্মচারী এলেও তাদের মধ্যে নিষ্ঠার অভাব। দুপুর ১২টার দিকেই তাদের একটা অংশ ব্যস্ত হয়ে পড়েন খাবারের আয়োজনে। বিকাল ৩টার পর চলে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি। আর সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে হাজিরা দিয়েই চলে যান গ্রামের বাড়িতে। আবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসের পৌঁছান দুপুরের দিকে। এ অবস্থার পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এখন যানজটের অজুহাত ভুলে সকাল ৯টায় অফিস ধরতে আপ্রাণ চেষ্টা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এতে করে সচিবালয়ে কাজের গতি বেড়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে আসার পথে দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে (যেমন সেমিনার, কর্মশালা, সিম্পোজিয়াম প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ কিংবা ব্যাংক, হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ে যাওয়া) সম্পৃক্ত হন। এর ফলে তারা নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এ অবস্থায় জনসেবা নিশ্চিত ও দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবশ্যই নিজ অফিসকক্ষে থাকতে হবে। দাপ্তরিক অন্যান্য কর্মসূচিও এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে এই সময়টুকু বিঘ্নিত না হয়।