NEWSTV24
শুরুতেই বিতর্কের মুখে পোস্টাল ব্যালট
বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ ১৪:৪৪ অপরাহ্ন
NEWSTV24

NEWSTV24

ভোট শুরুর আগেই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে একটি বাসায় কয়েক ব্যক্তির কাছে অনেক ব্যালট পেপার দেখা গেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক পোস্টাল ব্যালট কয়েকজন মিলে গুনছেন। পোস্টাল ব্যালটের খামে ঠিকানা লেখা রয়েছে বাহরাইনের। দেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা অনেক আগে থেকে চালু থাকলেও প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেছে ইসি।নিয়ম অনুযায়ী, নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দিরা এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারেন। তবে অতীতে এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে তেমন একটা আগ্রহী ছিলেন না অনেকেই। আগে আইন থাকলেও সুযোগ ছিল সীমিত। এবার আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ইসি। এ জন্য নির্বাচনী আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন শেষ হয়।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী সাত লাখ ৬০ হাজারের কিছু বেশি। বাকিরা দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে পৌনে ছয় লাখ সরকারি চাকরিজীবী, প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তা, ১০ হাজার আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং ছয় হাজারের কিছু বেশি কারাবন্দি রয়েছেন।ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে, তবে শেষ হয়নি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধিত ভোটারদের সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী ও প্রতীক জানানো হবে। এর পরই তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন এমন আসন রয়েছে ১৮টি। যেসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়, সেই আসনগুলোয় এই ভোট ফল নির্ণায়ক হতে পারে। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ১০ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল কমপক্ষে ৩০টি আসনে।

এদিকে, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস (সিরিয়াল) নিয়ে কৌশলগত পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এ নিয়ে গত কয়েক দিন সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে গতকাল। বাহরাইনে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট একটি দলের নেতার মাধ্যমে হ্যান্ডেলের অভিযোগ তুলে ধরে বিএনপি আরও বলেছে, ইসিকে দ্রুতই এই ব্যালট সংশোধন করতে হবে। দেশে যেন এসব পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার না করা হয়।ইসির নিবন্ধন অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১২১টি দেশে সাত লাখ ৬৭ হাজার ২৮ প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। বিদেশে সব ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রার্থী চূড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দ শেষে কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হবে।ইসির ভোটার তালিকা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনের হার ১ শতাংশের মতো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসনভিত্তিক হিসাবে পোস্টাল ভোট খুব বেশি নয়। তবে কিছু আসনে এই ভোট ফল নির্ধারণে নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

কোন আসনে কত পোস্টাল ভোট আসনভিত্তিক নিবন্ধনে ফেনী-৩ আসন শীর্ষে। এখানে ১৬ হাজার ৯৩ ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এরপরই চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ৩০১ জন নিবন্ধন করেছেন। জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে শীর্ষে কুমিল্লা। সেখানে ১ লাখ ১২ হাজার ৯০ ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এরপর ঢাকায় ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন এবং চট্টগ্রামে ৯৫ হাজার ২৯৭ জন ভোটার পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন।আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান সমকালকে বলেন,ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচনের ফল নির্ধারণে পাঁচ হাজার ভোটই অনেক বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম পোস্টাল ভোট এবং আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ব্যালট পাঠানোর পর কী পরিমাণ ফিরে আসে, সেটি দেখার বিষয়। তবে আমরা আশাবাদী, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন। এ ছাড়া আসনভিত্তিক হিসাবে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১০ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসন আছে ১৮টি। এর মধ্যে একটি ছাড়া সবকটি আসনই চট্টগ্রাম বিভাগে। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে, ১৬ হাজার ৩৮ জন।

সাড়ে ১২ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসনগুলো হলো চট্টগ্রাম-১৫ (১৪ হাজার ২৭২), কুমিল্লা-১০ (১৩ হাজার ৯৩৮), নোয়াখালী-১ (১৩ হাজার ৫৯২), নোয়াখালী-৩ (১২ হাজার ৭৪৫) এবং ফেনী-২ (১২ হাজার ৫৪১) আসন।১০ হাজারের বেশি ও সাড়ে ১২ হাজারের কম ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসনগুলো হলো কুমিল্লা-৪, ৫, ৬, ৯ ও ১১, সিলেট-১, চাঁদপুর-৫, নোয়াখালী-৪ ও ৫, ফেনী-১, কক্সবাজার-৩ ও লক্ষ্মীপুর-২।পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজারের কম ভোটার নিবন্ধন করেছেন এমন আসন ৯৭টি। বাকি আসনগুলোতে পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ১ হাজার ৫৪৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন বাগেরহাট-৩ আসনে।এ ছাড়া ৪৬টি আসনে পাঁচ হাজারের বেশি এবং ৬৬টি আসনে চার হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেন। সব মিলিয়ে ১১৬টি আসনে পাঁচ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোট, যা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।তবে সালীম আহমাদ খান এটাও বলেন, ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করলেও তাদের সবাই ভোট দেবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট না পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না।