লোডশেডিং কমাতে ফার্নেস অয়েলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোররাজধানীতে বাসায় ঢুকে যুবককে গুলিকুষ্টিয়ায় পানিবন্দি ৪০ গ্রামের মানুষবিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়কে ঝরল ৪ প্রাণসৌদির সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি হুতিদের, ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা
No icon

পিটিআই ও সরকারের মধ্যে গোপন 'চুক্তি'র গুঞ্জনে তোলপাড় পাকিস্তানের রাজনীতি

পাকিস্তানে প্রধান বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং বর্তমান সরকারের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে গোপনে ‘চুক্তি’ বা সমঝোতা নিয়ে জোর গুঞ্জন চলছে। এমন আবহে দলের অবস্থান স্পষ্ট করে পিটিআই-এর জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার দরজা তারা কখনোই বন্ধ করেননি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নতুন বা দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

অভ্যন্তরীণ সূত্রমতে, পিটিআই-এর পার্লামেন্টারি পার্টির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি বার্তাকে কেন্দ্র করে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব এসেছে। জাতীয় সংসদ ভবনে (পার্লামেন্ট হাউস) আয়োজিত বৈঠকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উপস্থিত থেকে বিরোধী দলের অভিযোগ ও দাবিগুলো শুনতে পারেন। 

এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ও আলোচনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আজ সোমবার নিজেদের পার্লামেন্টারি পার্টির জরুরি বৈঠক ডেকেছে পিটিআই।

এদিকে গত কয়েক দিন ধরে পিটিআই এবং সরকারের পিছনের শক্তিমহলের (পাওয়ারস দ্যাট বি) মধ্যে ব্যাকচ্যানেল সমঝোতার গুঞ্জন নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে হঠাৎ গণমাধ্যমে বাড়তি দৃশ্যমানতা দেওয়া এবং পিটিআই কর্মীদের রাজপথে আকস্মিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিশেষ বার্তা পাচ্ছেন।

দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডন-কে জানান, দুই দিন আগে পিটিআই-এর এক নারী সিনেটর জানান যে তার কাছে তথ্যমন্ত্রী ড. তারিক ফজল চৌধুরীর ফোন এসেছিল। খবরটিতে বলা হয়, সিনেটর মশাল ইউসুফজাই পার্লামেন্টারি পার্টিকে অবহিত করেছেন যে তারিক ফজল যখন কল দেন তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও রানা সানাউল্লাহর সঙ্গে বসা ছিলেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নিজে অংশ নেবেন এবং নিরপেক্ষ স্থান হিসেবে সংসদ ভবনের 'কনস্টিটিউশন রুম'-এ এটি আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পূর্বে পিটিআই-এর অন্যতম মিত্র ও সিনেট বিরোধীদলীয় নেতা রাজা নাসির আব্বাসও বলেছিলেন যে, পিটিআই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বদলে জাতীয় সংসদ ভবনের মতো নিরপেক্ষ স্থানে সংলাপে বসতে আগ্রহী।

তবে দলের শীর্ষ নেতাদের এড়িয়ে সরাসরি জুনিয়র নেত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের বিষয় নিয়ে পিটিআই-এর অভ্যন্তরে খানিকটা সংশয় তৈরি হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ নেতা প্রশ্ন তোলেন, মাহমুদ খান অচাকজাই, আমির ডোগার কিংবা গহর খানের মতো শীর্ষ নেতাদের ফোন নম্বর থাকা সত্ত্বেও কেন ইউসুফজাইয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলো? তবে ইউসুফজাই নিশ্চিত করেছেন প্রস্তাবটি গুরুত্ব সহকারে এসেছে।

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে পিটিআই মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা জানান, চুক্তি সংক্রান্ত খবরগুলো স্রেফ জল্পনা-কল্পনা। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের অবস্থানে অটল। সরকার যদি সততার সঙ্গে কথা বলতে চায়, তা দ্রুতই স্পষ্ট হবে। আমরা রাজনৈতিক দলসহ সমাজের সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের অনুমোদন ও সম্মতি ছাড়া কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে না।”