ডাস্টবিনে ৩১ নবজাতকের মরদেহ : জরুরি বৈঠকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ‘নতুন ব্যাংক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে’আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে তুরাগ তীরে মানুষের ঢলদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাস পাওয়ার আশা অর্থমন্ত্রীরহাসপাতালের ডাস্টবিনে ২২ নবজাতকের লাশ
No icon

স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতির বিচার দাবিতে আ’লীগের মানববন্ধন

চোর সন্দেহে এক অটোচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে গাজীপুর ৩০ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয়রা। রোববার বিকালে বাঙ্গালগাছ এলাকায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শেষে ৩০নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুর রহমান বলেন, সাইদুলকে অমানবিক নির্যাতন করেছে আদিল হোসেন। আমি তার ন্যায়বিচার চাই। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আমার সন্দেহ আছে। ওই এলাকার ছাত্রলীগ নেতা রুহুল আমিন বলেন, আমরা মানববন্ধনের মাধ্যমে এটাই প্রশাসনকে জানাতে চাই, আদিলের শাস্তি হোক, সঠিক তদন্ত করে সঠিক বিচার দেখতে চাই। কেউ যেন আইন হাতে নিয়ে কাউকে নির্যাতন না করতে পারে।

নিলের পাড়ার রতন মিয়া বলেন, নৃশংসভাবে অমানবিক কায়দায় গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে সারা শরীর রক্তাক্ত করেছে। ফলে তিন মাস পর সে মারা যায়। আমরা আদিলের বিচার চাই।

বাঙ্গালগাছ এলাকার আ. খালেক বলেন, দেশে আইন আছে,চোর সন্দেহে এভাবে মারধর করা ঠিক হয়নি। নিহত সাইদুলের ছোট দুটি ছেলেমেয়ের দায়িত্ব কে নেবে?

স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ তিন মাস আগে ওই নেতার নির্যাতনে গত শনিবার সাইদুল ইসলাম ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছেন। এ ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কাউকে ধরছে না পুলিশ এমনকি মামলাও নিচ্ছে না।

এদিকে মৃত্যুর সপ্তাহখানেক আগে শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সাইদুল অডিও রেকর্ডে অভিযুক্ত আদিল হোসেনসহ জড়িত অনেকের নাম রেকর্ড করে গেছেন।

রোববার সাইদুলের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে গাজীপুর মাদ্রাসা কবরস্থানে বিকালে দাফন করা হয়। এদিকে গত শনিবার নিহতের স্ত্রী জহুরা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও অভিযুক্ত আটক করেনি পুলিশ। এছাড়া নিহতের পরিবারকে মামলা না করার জন্য নানভাবে একটি প্রভাবশালী মহল চাপ প্রয়োগ করছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রো সদর থানার ওসি (পরিদর্শক) শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনা তদন্ত করে আমি মারধর করার সত্যতা পেয়েছি। নিহত সাইদুলের স্ত্রী জহুরা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছে শনিবার রাতে। কিন্ত মামলা এন্ট্রি হয়নি।

গাজীপুর মেট্রো সদর থানার ওসি সমীর চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর মামলার বিষয়টি দেখব।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ অক্টোবর ভোর ৪টায় ৩০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আদিল হোসেন চোর সন্দেহে সাইদুলকে বাসা থেকে উঠিয়ে বালুচাকুলি এলাকায় নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে চোখ বেঁধে প্লাস দিয়ে হাতের নখ উঠিয়ে ফেলে এবং লাঠি দিয়ে পুরো শরীর নৃশংসভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।